logo

সম্পাদকীয়

শিল্প ও শিল্পীর চতুর্থ সংখ্যা প্রকাশিত হলো। শুভানুধ্যায়ী ও পাঠকেরা যেভাবে চিত্রকলা ও সংস্কৃতিবিষয়ক এ-পত্রিকাকে গ্রহণ করেছেন, তাতে আমরা আশান্বিত হয়েছি। এছাড়া পাঠকেরা ভবিষ্যৎ পথচলা ও চরিত্রনির্মাণের জন্য যে-গঠনমূলক পরামর্শ দিয়েছেন তা আমরা মান্য জ্ঞান করে পত্রিকাটিকে উত্তরোত্তর বিষয়বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের শক্তিমত্তা, চিত্রভাষা-নির্মাণ ও শৈল্পিক অনুষঙ্গ নিয়ে ভারতের বিশিষ্ট শিল্প-সমালোচক প্রণবরঞ্জন রায় একটি প্রবন্ধ লিখেছেন। এ-সংখ্যায় তা পত্রস’ হলো।
খ্যাতনামা চিত্রকর ফ্রান্সিস বেকনের (১৯০৯-৯২) জীবন ও শিল্প নিয়ে মনোগ্রাহী ও বিশ্লেষণমূলক একটি প্রবন্ধ লিখেছেন শিল্প-সমালোচক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। এই শিল্পী নানা দিক থেকে ইউরোপ ও আমেরিকায় হয়ে উঠেছিলেন খুব আলোচিত ও প্রভাময় এক চিত্রী। লেখক ২০০৯ সালে নিউইয়র্কে এই শিল্পীর একটি প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করেছিলেন। তাঁর এই অভিজ্ঞতা শিল্পচেতনার দিগন-কে বিস-ৃত করেছিল। তারও বিবরণ ধরা আছে এ-প্রবন্ধে।
বাংলাদেশের সত্তরের দশক ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সকল দিক থেকে জাগরণের এক কাল। এই সময়ের চিত্রকলায় আমরা লক্ষ করেছি নানা স্ফুরণে ও প্রবণতায় স্বরূপ-চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলনে উজ্জ্বলতা। এ নিয়ে লিখেছেন নজরুল ইসলাম।
পাবলো পিকাসো (১৮৮১-১৯৭৩) তাঁর সমকালে নানা দিক দিয়ে – বিলোড়নে, সৃষ্টির মগ্নতায়, জীবনযাপনে, নারীদের সঙ্গে বন্ধুতায় ও অফুরান সৃজনে হয়ে উঠেছিলেন শতাব্দীর সর্বাধিক আলোচিত শিল্পী। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের প্রাক্কালে তাঁর অসামান্য সৃষ্টি গের্নিকা শুধু যুদ্ধবিরোধী এক বহুমাত্রিক প্রতিবাদ নয়, এ-ছবিতে পরিস্ফুট হয়েছে শানি–প্রতিষ্ঠায় এই শিল্পী-পুরুষের এক মানবিক দলিলও। প্রবাসী লেখক হায়দার আলী খান এই গের্নিকা চিত্রের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
সমকালীন ভারতবর্ষের অন্যতম শ্রদ্ধেয় ও মান্য এক শিল্পী সুব্রহ্মণ্যন্। রবীন্দ্রনাথের সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গকে জীবনযাত্রায় ধারণ করে জীবনবোধ ও শিল্পসত্তায় প্রবীণ এই শিল্পী হয়ে উঠেছেন রাবীন্দ্রিক চৈতন্যের এক শিল্পী। এখনো তিনি সৃষ্টির উদ্দামতায় সক্রিয়। তাঁকে নিয়ে আলোচনা করেছেন তপন ভট্টাচার্য।
মীরা মুখোপাধ্যায় ভারতবর্ষের ভাস্কর্যে সৃষ্টির বৈচিত্র্য, মানবিক গুণাবলি ও শিল্পিত প্রকরণে এক প্রাণসঞ্চারী ভুবন নির্মাণে সমর্থ হয়েছিলেন। তাঁকে নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন শিল্প-সমালোচক সত্যজিৎ চৌধুরী।
চলচ্চিত্র-নির্মাতা তারকোভস্কিকে নিয়ে একটি আলোচনা এ-সংখ্যায় প্রকাশিত হলো। লিখেছেন বাংলাদেশের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র-আন্দোলনের কর্মী রতন পাল।
এছাড়া ‘ডেমিয়েন হার্স্ট ও শিল্পের ইতিহাস’ শীর্ষক একটি রচনা পত্রস’ হলো। এ-প্রবন্ধটির রচয়িতা বাংলাদেশে ইতালির রাষ্ট্রদূত জর্জিও গুইলিয়েলমিনো।
শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরীর অশীতিতম বর্ষ-উপলক্ষে আশিটি চিত্র নিয়ে একটি প্রদর্শনী সমপ্রতি অনুষ্ঠিত হয়ে গেল বেঙ্গল শিল্পালয়ে। নানা দিক থেকে প্রদর্শনীটি ছিল গুরুত্ববহ। কাইয়ুম চৌধুরীর এ-প্রদর্শনীটি নিয়ে লিখেছেন শিল্প-সমালোচক বোরহানউদ্দিন খান জাহাঙ্গীর।
বেঙ্গল আর্ট লাউঞ্জে সমপ্রতি কাজী গিয়াসউদ্দিনের একটি চিত্র-প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ-প্রদর্শনীটি নিয়ে আলোচনা করেছেন মনজুরুল হক।
এছাড়া নিয়মিত বিভাগ, আন-র্জাতিক অঙ্গনের একটি প্রদর্শনীর খবর ও আন-র্জাতিক নিলামে কোন শিল্পীর ছবি কত দামে বিক্রি হয়েছে তা উল্লিখিত হয়েছে।
আমরা এই সংখ্যার কাজ যখন শেষ করেছি তখনই খবর এলো এদেশের শিল্পগুরু ও আধুনিক
চিত্র-আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ সফিউদ্দীন আহমেদ আর নেই। তাঁর মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। তাঁকে নিয়ে পঞ্চম সংখ্যায় শ্রদ্ধাজ্ঞাপক প্রবন্ধ প্রকাশিত হবে।
পরিশেষে একটি কথা না বললেই নয়। কাগজের ঊর্ধ্বমূল্য ও মুদ্রণ ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমরা এ-সংখ্যা থেকে পত্রিকার দাম দুশো টাকা করতে বাধ্য হয়েছি। পাঠকেরা আশা করি এ-বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।

Leave a Reply

*