logo

সমরজিৎ রায় চৌধুরী : তাঁর পরিবর্তনশীল আঙ্গিক

ন জ রু ল  ই স লা ম

সমরজিৎ রায় চৌধুরী তাঁর প্রথম একক চিত্র প্রদর্শনী করেছিলেন ১৯৮৩ সনে, বেশ বয়সে, তিনি তখন ৪৬। ঢাকার চারুকলা কলেজ থেকে স্নাতক অর্জন করেছেন ১৯৬০ সনে, অর্থাৎ পাশ করার ২৩ বছর পর তিনি তাঁর প্রথম একক প্রদর্শনী করেছেন।  অবশ্য মাঝের এই দীর্ঘ সময়ে তিনি অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছেন। বেশ কিছু গোষ্ঠী ও দলীয় প্রদর্শনীতেও অংশ নিয়েছেন। ঢাকা আর্ট সার্কেলের তিনি অন্যতম উদ্যোক্তা ও নেতা, এই সার্কেল আয়োজিত সব কটি প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন। ১৯৬১-৮২ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত প্রদর্শনীতে তো তিনি একটি, দুটি বা গুটিকয়েক কাজ নিয়ে অংশ নিয়েছেন। অনেক সময় দর্শকের বিশেষ দৃষ্টি তেমন আকর্ষণ করতে পেরেছেন, তেমন মনে হয় না। কিন্তু ১৯৮৩ সনের একক প্রদর্শনী তাঁকে এদেশের একজন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিল একথা বলাই যায়। এই প্রদর্শনীর আয়োজক ছিল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, একাডেমী তখন প্রদর্শনী উপলক্ষে শিল্পীর কাজ দিয়ে ‘কন্টেম্পোরারি আর্ট সিরিজ অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক একটি চমৎকার মনোগ্রাফ প্রকাশ করেছিল। প্রদর্শনীতে তাঁর ৬০টি শিল্পকর্ম স্থান পেয়েছিল, এর ৩০টি তেলরঙের কাজ, ১৬টি গোয়াশ, ৫টি প্যাস্টেল, ৩টি এচিং ও ৬টি ড্রইং। তাঁর এই প্রথম একক প্রদর্শনীতেই তিনি নিজস্ব আঙ্গিক প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট ছিলেন। মূলত কিউবিস্ট ঘরানার কাজ। ঢাকায় পঞ্চাশ ও ষাটের দশকে মোহাম্মদ কিবরিয়া, আমিনুল ইসলাম, মুর্তজা বশীর, কাজী আবদুল বাসেত ও কাইয়ুম চৌধুরী অনেকটা এই ধারায় কাজ করেছেন। সমরজিৎ তখন বিষয়বস্ত্ত হিসেবে নির্বাচন করেছেন নিসর্গ, বিশেষত বনবনানী, পত্রপল্লবিত বৃক্ষশোভা। কাইয়ুম চৌধুরীর নিসর্গ বিষয়ভিত্তিক কাজের আঙ্গিকের সঙ্গে বেশ মিল পাওয়া যেত সমরজিতের এই সময়ের তেলরং ছবির।

সমরজিৎ রায় চৌধুরী মূলত ব্যবহারিক শিল্প বা গ্রাফিক ডিজাইনে সণাতক লাভ করলেও প্রথম থেকেই সৃজনশীল সুকুমার শিল্পচর্চায় মনোযোগী হয়েছেন এবং পরবর্তী সাড়ে পাঁচ দশক একাগ্রচিত্তে নিরীক্ষাধর্মী শিল্পচর্চাতেই নিজেকে নিবেদিত রেখেছেন। তিনি আঙ্গিকের ওপরই গুরুত্ব দিয়েছেন বেশি। ‘আসলে ছবির পরিবর্তনটা আসে আঙ্গিকে, বিষয়বস্ত্ত কিছু নয়’, এমন কথা তিনি সম্প্রতি (জুন, ২০১৪) শিল্পপ্রভার সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ব্যক্ত করেছেন। অবশ্য বিষয়বস্ত্ত তিনি অবহেলা করেননি।

সত্তরের দশকের প্রথম দিকে সমরজিৎ তেলরং ও প্যাস্টেলে অনবদ্য পল্লী-নিসর্গ (যেমন, ‘নবান্ন’, ১৯৭০) কিংবা নারী অবয়ব (যেমন ‘প্রসাধন’, ১৯৭১, ‘কনে’, ১৯৭২) এঁকেছেন, মূলত কিউবিস্ট ধারায়। নগর দৃশ্যও এঁকেছেন প্রায় একই আঙ্গিকে (‘পুরাতন ঢাকা’, তেলরং, ১৯৭৩)। রঙের ব্যবহারে মিশ্র খয়েরি ও হলুদ (‘নবান্ন’) অথবা প্রকট উজ্জ্বল লাল ও কালচে নীল (‘পুরাতন ঢাকা’) নির্বাচন করেছেন। নারী অবয়ব অঙ্কনে কিউবিস্ট আঙ্গিকের সঙ্গে জয়নুল আবেদিনের কাজের মতো মোটা রেখা (‘প্রসাধন’) পছন্দ করেছেন। ইউরোপীয় কিউবিস্ট ও ফিউচারিস্ট আঙ্গিকের অনুসরণে বেশ কিছু কাজ করেছিলেন সমরজিৎ নববইয়ের দশকের মাঝামাঝি ও শেষ পর্বে (‘স্বপ্ন-স্মৃতি আমার দেশ-৩’, তেলরং, ১৯৯৫ ও ‘সুখের জন্য নির্মাণ, ১, ২ ও ৩’ তেলরং, ১৯৯৭)।

সমরজিৎ বেশ কয়েকটি আপাত ভিন্ন বৈশিষ্ট্যপূর্ণ আঙ্গিক রচনা করেছেন। প্রথম দিকে তাঁর কাজ ছিল কিউবিজম ও ফিউচারিজম প্রভাবিত, মাঝে তাঁর অত্যন্ত নিজস্ব চরিত্রের রেখা ও ফর্ম-প্রধান ও প্রতীকধর্মী আঙ্গিক নির্মাণ করেছেন। পরবর্তীকালে অত্যন্ত জমাট বিন্যাসসমৃদ্ধ প্রায় বিমূর্ত আঙ্গিক প্রতিষ্ঠা করেছেন। প্রতিটি পর্বেই তাঁর কাজে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ও দক্ষতার পরিচয় রেখেছেন। আমার কাছে বিশেষভাবে ভালো লেগেছে তাঁর নববইয়ের দশকের ‘আমার দেশ’ শীর্ষক জলরং ও তেলরঙের সিরিজ কাজ। অসাধারণ সুন্দর এসব কাজ। অধিকাংশ ছবির পটভূমি কয়েকটি জ্যামিতিক, মূলত ত্রিভুজাকৃতির, ক্ষেত্রে বিভক্ত, কখনো শুধু সরলরেখা দ্বারা এসব ক্ষেত্র আলাদাভাবে চিহ্নিত, কখনো রং বিভাজনে বিভক্ত। এই প্রধান ক্ষেত্রসমূহ আবার কখনো অসংখ্য ক্ষুদ্র ত্রিভুজ, চতুর্ভুজ বা আয়তাকার জ্যামিতিক ফর্মে বিভক্ত। সেসব আকার বা জ্যামিতিক ফর্ম ঝুলন্ত রেখা দিয়ে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত। এসব আকার বা ফর্মের উৎস হয়তো ঘুড়ি এবং গ্রামের উৎসব অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত নানা আকৃতির রঙিন কাগজের সাজসজ্জা। সরু রশি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখা সেইসব কাগজের সজ্জা, ত্রিভুজ ও চতুষ্কোণী আকার ও রশি বা সুতার টানা, এগুলোই ছিল সমরজিতের চিত্রকলার কম্পোজিশনের অনন্য প্রেরণা। কখনো ক্যানভাসের নিচের দিকে বা কোনাকুনিতে হালকা রেখায় শিশু-চিত্রকলার আদলে অাঁকা নর-নারী ও শিশুদের উপস্থিতি। এ পর্যায়ে তাঁর রং নির্বাচন ছিল হালকা ও মিশ্র। প্রাথমিক রঙের ব্যবহার কম। ক্যানভাসে বিস্তর খোলা জায়গা রাখেন, যেন ঘুড়ি উড়াবার বিশাল আকাশের প্রতীক। অনেকটা এভাবেই ছবিতে তাঁর নিজস্ব আঙ্গিক তৈরি হয়েছে। সমরজিতের এই আঙ্গিকের ছবির মিল দেখতে পাই (সম্ভবত আকস্মিকভাবে) কানাডিয়ান শিল্পী জ্যাক স্যাডবোল্টের পঞ্চাশের দশকের কাজের সঙ্গে, বিশেষ করে জ্যামিতিক আকার, সংযুক্তকারী সরু রেখা ও পাখির সরল মোটিফ এবং সার্বিকভাবে ব্যবহৃত বাদামি বর্ণ পট (যেমন ‘অব বার্ডস অ্যান্ড গ্রাস’, ১৯৫৪, টরন্টো আর্ট গ্যালারির সংগ্রহের) কাজটিতে। আকস্মিক মিল এজন্য বলেছি কারণ জ্যাক বোল্ট আমাদের দেশের শিল্পীদের কাছে খুব একটা পরিচিত নন। সমরজিতের আরেক ধরনের ছবিতে বিন্যস্ত হয়েছে ফসলি জমির ভূমি ব্যবহার, নানা রঙের আয়তাকার বা বর্গাকার ছোট-বড় ক্ষেত্র, ওপর থেকে দেখা দৃশ্য। এসব ছবির সামগ্রিক চরিত্র পল ক্লির কোনো কোনো কাজের মতো, তারপরও ভিন্নতা অবশ্যই আছে। পল ক্লির, ‘হাইওয়ে অ্যান্ড বাইওয়েজ’ (১৯২৯ সনের) ছবিতে হালকা রঙে অসংখ্য আয়তাকার ক্ষেত্র বিভাজন, ভূমি ব্যবহার, এর মিল পাই সমরজিতের ২০১২-র অ্যাক্রিলিক ‘লিলিজ অ্যান্ড বার্ডস’ কাজের, এতে আছে আনুভূমিক সমান্তরাল বিভাজিত ক্ষেত্র, যার ওপর স্থাপিত হয়েছে শাপলা ও পাখির প্রতীকী রেখা-প্রধান নকশা। তাঁর আরো বেশ কিছু অতি সাম্প্রতিক সমধর্মী কাজ রয়েছে। এসব কাজে গ্রামীণ দৃশ্যাবলি, বিশেষ করে তাঁর শৈশবের স্মৃতিজাগানিয়া বা নস্টালজিক দৃশ্যাবলি ও উপকরণাদি তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। আবার তাঁর নিজের দীর্ঘদিনের আবাস যে ঢাকা শহর, সেই শহরও তাঁকে উদ্বুদ্ধ করে। পুরাতন ঢাকার বিষণ্ণ বাস্তবতা তাঁর ছবিতে আশ্চর্য বর্ণালি ঢং ও উচ্ছলতা নিয়ে ধরা দিয়েছে। বর্তমান শতাব্দীর শুরু থেকেই সমরজিৎ অধিকতর মানব-মানবী ও পাখিনির্ভর ছবি এঁকেছেন। এক্ষেত্রে উপস্থাপনায় ভারী কালো রেখা ও উজ্জ্বল রং ব্যবহার করেন। ক্ষেত্র বিভাজনে জ্যামিতিকতার গুরুত্বও বেড়েছে। কম্পোজিশন অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ।

ঢাকার ধানমন্ডির বেঙ্গল গ্যালারিতে অতি সাম্প্রতিক (৬-২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৪) একক প্রদর্শনীতে সমরজিৎ অনেক বেশি উচ্ছল ও তারুণ্যময়। কম্পোজিশন আগের তুলনায় জটিলতর। রং নির্বাচনেও অনেক বেশি সাহসী, লাল, নীল, সবুজ, হলুদ প্রভৃতি রঙের নিরীক্ষাধর্মী ব্যবহার। ঘুড়ি এখনো তাঁর প্রিয় প্রতীকী ফর্ম, তবে নদী, নৌকা, ফসলের মাঠ, মানব-মানবী, পল্লী বা নগরের বাস্ত্ত নির্মাণ, এসবও শিল্পীর মনোযোগ পেয়েছে। ক্যানভাসে দাবার ছকের মতো নানা রঙের অসংখ্য ছোট বর্গক্ষেত্র বা নানা দেশের পতাকার মতো নকশা ও ছোট ছোট নানা প্রতীকের সমাবেশ ঘটান। বিস্তীর্ণ পটভূমিতে নৌকা কিংবা ঘুড়ি প্রতীকী নকশা আকারে উপস্থাপিত হয়, মানব-মানবী বরং মুখ্য ভূমিকা লাভ করে। বেশিরভাগ ছবিতেই মানুষ নকশার মাঝে যেন লুকিয়ে থাকে, কোনো কোনো কাজে পুরো ছবিতে নানা রেখা যেন একটি নারী মুখের প্রতিনিধিত্ব করে। রহস্যময় সেই নারী মুখ। কিছু ছবিতে প্রেমিক যুগল উজ্জ্বল রং ফর্মের অংশ হয়ে থাকে। বস্ত্তত সমরজিৎ যেমন বলেছেন, বিষয়বস্ত্ত তার কাছে মুখ্য নয়, ছবির বিন্যাস ও আঙ্গিকই মুখ্য। আর আঙ্গিক নির্মিত হয় রেখা, রং আর নানান জ্যামিতিক ফর্মের সমন্বয়ে। তাঁর এই অতি সাম্প্রতিক কাজে তিনি চিক্কন রেখার পাশাপাশি খুব চওড়া রেখা, বা বলা উচিত রেখাসমন্বয়, ব্যবহার করেছেন। সমরজিৎ যে একজন দক্ষ ডিজাইনার তাঁর প্রমাণ এই ধারার চিত্রকর্মসমূহ।

তাঁর কাজের মধ্য দিয়ে সমরজিৎ কোনো মতাদর্শ প্রচার বা সামাজিক বক্তব্য জানানোর প্রয়াস পাচ্ছেন, এমন মনে হয় না, বরং একেবারেই নান্দনিক রূপ উপস্থাপনাই সম্ভবত তাঁর লক্ষ্য। নিসর্গ ও মানুষই তাঁর প্রিয়। সঙ্গে প্রতীক হিসেবে সংযোজন করেন পাখি, নৌকা, মাছ ও ফুলের নকশা। ইদানীং ছবিতে বুনট বা টেক্সচার নিয়েও কিছু নিরীক্ষা করেছেন (তবে তাতে খুব সফল হয়েছেন বলা যায় না)। মূলত রোমান্টিক মানসিকতা নিয়েই সমরজিৎ কাজ করেন এবং খুব চমৎকার শিল্প সৃষ্টি করেন। আঙ্গিক বৈশিষ্ট্যে তিনি বিংশ শতাব্দীর আধুনিক শিল্প প্যারাডাইমে নিজেকে আন্তরিকভাবে সীমিত রেখেছেন এবং সে আঙ্গিকেই তিনি অর্থপূর্ণ চিত্রকলা সৃষ্টি করেছেন, অযথা চমক সৃষ্টি করতে চাননি। তাঁর চিত্রকলা দর্শককে আনন্দ দেয়, ভাবিত করে এবং দেশ ও কালের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাখে।

লক্ষণীয়, সমরজিৎ রায় চৌধুরী শিল্পকলা শিক্ষালাভ করেছেন শুধুমাত্র ঢাকার চারুকলা কলেজে। পাশ্চাত্য ধারায় মূলত ছবি অাঁকলেও তিনি পাশ্চাত্যের কোথাও শিল্প শিক্ষা গ্রহণ করেননি, এমনকি সম্ভবত ২০০০ সনের আগে কখনো ভ্রমণসূত্রেও দূর প্রবাসে যাননি। তাঁর শিল্পার্জন একান্তই নিজস্ব। বিদেশে একটি মাত্র একক প্রদর্শনী করেছেন, জার্মানিতে ২০০৮ সনে। সমরজিৎ চারুকলা কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেছিলেন ব্যবহারিক শিল্প বা গ্রাফিক ডিজাইনে, কিন্তু সুকুমার শিল্পচর্চায় নিয়োজিত থেকেছেন সারাজীবন, নিজস্ব শিল্প আঙ্গিক নির্মাণ করতে সমর্থ হয়েছেন। চারুকলার অপর এক মেধাবী স্নাতক আবদুস শাকুর বুননশিল্পে পেশাগত শিক্ষালাভের পরেও চিত্রকলায় লোক ও আধুনিক ঐতিহ্যের সমন্বয়ে সৃজন করেছেন এক আকর্ষণীয় আঙ্গিক, তৃতীয় একজন শিল্পী বর্তমানে মার্কিন প্রবাসী নিয়ামুল বারী ঢাকার চারুকলা থেকে মৃৎশিল্পে স্নাতক লাভ করে পরবর্তীকালে বিশুদ্ধ বিমূর্ত চিত্রকলায় সিদ্ধি লাভ করেছেন। অর্থাৎ বলতে চাইছি, ঢাকার চারুকলা কলেজের পরিবেশ ব্যবহারিক কলা শিক্ষায় অভিজ্ঞ শিল্পীর সুকুমার সৃজন-প্রতিভার উন্মেষে আদৌ কোনো বাধা হয় না। শিল্পীর ভেতরের তাগিদ ও
নিরীক্ষা-প্রবণতাই সম্ভবত বড় কথা।

সমরজিৎ রায় চৌধুরী সাতাত্তর বছর বয়সে এক অসাধারণ প্রদর্শনী উপহার দিয়েছেন, ‘দৃশ্যান্তর’ বা ‘মন্তাজ’ শিরোনামে। এই প্রদর্শনী দেখে আমরা যেমন বিস্মিত হই তেমনি ভীষণভাবে আশান্বিত হই, এই পরিণত শিল্পী আরো দীর্ঘদিন তাঁর সৃজনশীল প্রতিভার স্বাক্ষর রাখবেন। শিল্পী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের সুপারনিওমারারি প্রফেসর হিসেবে বর্তমানে একনিষ্ঠভাবে শিক্ষকতা করছেন ও নানা মাধ্যমে তাঁর শিল্পচর্চা অব্যাহত রেখেছেন। এবছরই তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুরস্কার ও শিল্প ও সংস্কৃতি ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকারের একুশে পদক লাভ করেছেন। বেঙ্গল শিল্পালয়ে তাঁর একক প্রদর্শনী শিল্পী হিসেবে তাঁর আসন সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে সন্দেহ নেই। ব্যক্তিগত জীবনাচরণ ও শিল্পচর্চা উভয় বিবেচনাতেই তিনি এক যথার্থ শিল্পী। n

 

[২৯ সেপ্টেম্বর,২০১৪]

 

Leave a Reply

*