logo

যোগেন চৌধুরী মানবমুক্তিতে বিশ্বাসী

ম তি উ র  র হ মা ন

ভারতীয় চিত্রকলার শক্তিশালী শিল্পী যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় ১৯৮৭ সালের আগস্টের এক সন্ধ্যায়, শান্তিনিকেতনে। তারপর আবার দেখা হয়েছে শান্তিনিকেতনে, ১৯৮৮ সালের জুন মাসে। প্রথমবার আমার পরিচয়পত্র নিয়ে গিয়েছিলাম ভারতের আরেক বড় শিল্পী গণেশ পাইনের কাছ থেকে। মনে পড়ে, গণেশদার চিঠি আর ঢাকা থেকে গিয়েছি – দুইয়ে মিলে প্রথম পরিচয়েই আন্তরিকতার স্পর্শে মুগ্ধ হয়েছিলাম। তাঁর জন্মভূমি বাংলাদেশে, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায়।

মনে পড়ে, শান্তিনিকেতনের কলাভবনে গিয়ে দেখা করে পরিচয় দিলাম। যোগেনদা বললেন, ‘সন্ধ্যায় বাসায় আসেন, গল্প করব।’ সেদিনই অত্যন্ত সহজিয়া অন্তরঙ্গতায় গভীর রাত পর্যন্ত দুই দেশ নিয়ে গল্প, তাঁর শিল্পীজীবনের অতীত আর বর্তমান নিয়ে অনেক কথা আর গানও শোনা হয়। তাঁর বাসাতেই রাত কাটাই। মনে পড়ে, সেই প্রথম তিনি ইফ্ফাত আরার গান শুনে আবেগবিহবল হয়ে পড়েছিলেন। আমি ইফ্ফাতের রবীন্দ্রসংগীতের ক্যাসেট নিয়ে গিয়েছিলাম তাঁর জন্য।

একধরনের মগ্ন-কথোপকথনের মধ্য দিয়ে আমার শোনা হয়ে গিয়েছিল যোগেন চৌধুরীর প্রায় সমগ্র জীবনকথার সারাংশ। তবে তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনকাহিনির মধ্যে তাঁর শৈশবের কথা, কোটালীপাড়ার ডহরপাড়া গ্রামের কথা যখন বলছিলেন, তখন তিনি সত্যিই ফিরে যাচ্ছিলেন সেই দূর-অতীতে, তাঁর শেকড়ের কাছাকাছি। শুরুতেই এখানে সেটুকু বর্ণিত হলো। তাঁর কথায় : ‘১৯৩৯ সালে আমার জন্ম। বাংলাদেশে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার ডহরপাড়া গ্রামে। নয় বছর বয়স পর্যন্ত সেখানেই ছিলাম। পড়াশোনা শুরু ওই গ্রামের পাঠশালাতেই। ১৯৪৮ সালে কলকাতায় চলে আসি। আমার বাবা প্রমথনাথ চৌধুরী ছিলেন আরো কিছুদিন। চৌধুরী বংশের জমিদারি ছিল। আড়াই হাজার বিঘা জমি ছিল আমাদের। পঞ্চাশের দশকের শুরুতে আমার বাবাও চলে আসেন কলকাতায়।

‘আমাদের সেই ডহরপাড়া গ্রামের ছোটবেলার সবকিছু মনে পড়ে এখনো। সেসব কথা এখনো স্মৃতিতে আসা-যাওয়া করে। সবকিছু দেখতে পাই, হুবহু মনে পড়ে। কোথায় রান্নাঘর ছিল; তার পেছনে পুকুর ছিল। সেই গ্রামে বড় আয়োজনে দুর্গাপূজা হতো। যাত্রা দেখতে যেতাম। স্কুল পালিয়ে মাছ ধরতাম। সেসব স্মৃতি এখনো বড় বেশি পিছু টানে। আমাদের গ্রামে থিয়েটার হতো। বাবা মেয়েদের পাট করতেন। কর্ণকুন্তী নাটকে কুন্তীর অভিনয় করতেন। সে নাটক আমি দেখেছি। নাটকের মঞ্চের সামনের পর্দার দৃশ্য আমার বাবা তৈরি করেছিলেন। মনে আছে, অনেকগুলো সাপের সামনে কৃষ্ণ বাঁশি বাজাচ্ছে। বাবার অাঁকা আর অভিনয়ের খুব শখ ছিল। খুব উৎসাহ নিয়ে দুর্গা বানাতেন। থিয়েটারের জন্য বানাতেন মুকুট। আর সাজানোর অন্য জিনিসপত্র। এসব ব্যাপারে বাবা খুব দক্ষ ছিলেন। তিনি একানববই বছর বয়সে মারা যান। আমার মা, ইন্দুমতী চৌধুরী সুন্দর আলপনা করতেন। রঙিন সুতোয় কাঁথা করতেন।

‘আমাদের বাড়ি ছিল কাঠের দোতলা। একা একা দোতলায় যেতাম। সেখানে থিয়েটারের জিনিসপত্তর জমা থাকত। মুকুট, তলোয়ার ইত্যাদি ঘাঁটাঘাঁটি করতাম। রং থাকত। সে রং নিয়ে কাজ করতাম। চুন আর রাংচিতা দিয়ে হলুদ রং হতো। কাঠকয়লা দিয়ে কালো রং করতাম, আর চুন দিয়ে সাদা। এগুলো দিয়ে দুর্গাপ্রতিমা আর সরস্বতীর প্রতিমা বানাতাম।

‘আরো অনেক স্মৃতি। কুমোর যখন দুর্গা বানাতে আসত, আমরা বসে বসে দেখতাম। খড়, তুষ ইত্যাদি দিয়ে কীভাবে মুখ, হাত, আঙুল হয়ে যেত দেখতাম। কীভাবে রং দিয়ে শেষ হতো দেখতাম। ওরা চলে গেলে নানা কিছুর টুকরো পড়ে থাকত। যাত্রার পর পুঁতি, চুমকি পড়ে থাকত, সেগুলো তুলে আনতাম। তা দিয়ে নানা কিছু বানানোর চেষ্টা করতাম।

‘বর্ষার স্মৃতি – বৃষ্টি হচ্ছে, জলে ভরে গেল চারদিক, মাছ সামনে চলে এলো, এ রকম অনেক স্মৃতি মনে পড়ে। বড়শি দিয়ে মাছ ধরতাম খাল-বিলে। টাকি মাছ পেতাম। কই মাছ উঠে আসত। বর্ষায় নৌকায় করে দূরে চলে যেতাম। সরু নৌকা দিয়ে যেতাম। নিজেদের নৌকা ছিল। ধান ও পাটখেতের মধ্য দিয়ে যেতাম। খেতের পরিষ্কার জলের মধ্যে পুঁটি-খলশে মাছ দেখতাম। সে মাছগুলোর লাল-সবুজ রং এখনো চোখে ভাসে। খাল-বিলে শাপলা ফুল হতো। সেগুলো দেখতাম। শাপলা-শালুক ভেঙে শাঁস খেতাম।

‘আমার প্রথম দিকের ছবিতে, বিশেষ করে একটা সময়ে লতা-পাতা, মাছ-গাছ – এ সবকিছু এসেছে আমার ছোটবেলা থেকে। এগুলো এখনো খুব বেশি হন্ট করে। ডহরপাড়া গ্রামের সেসব স্মৃতি আমাকে অতীতের সেই দিনগুলোতে নিয়ে যায়। আবার সত্তরের দশকে সে স্মৃতিগুলো এসেছে আমার কাজে। যখন ধীরস্থির হয়ে কাজ শুরু করি, তখন সে স্মৃতিগুলো ফিরে ফিরে আসে।

‘১৯৪৭ সালে দেশ বিভক্তির পর যখন কলকাতায় চলে আসি, তখন তো প্রচন্ড শরণার্থী সমস্যা, খাদ্যাভাব, খাদ্য আন্দোলন আর ধর্মঘট চলেছে। এসব নিয়ে প্রচুর স্কেচ করেছিলাম। সে জন্য জানেন, আমার ছবিতে শুরু থেকে একটা দুঃখ-বেদনার ব্যাপার আছে। পরেও যা কিছু এঁকেছি, তাতে একটা কালো ও অন্ধকারের দিক রয়েছে।

‘বাবা-মার কাছ থেকে ছবি আঁকার ব্যাপারটা পেয়েছিলাম। ছোটবেলা থেকেই ছবি ভালো লাগত। কলকাতাতেই ছবির জগৎ, চিত্রকলা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা হতে শুরু করে। সে সময়ই অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম শুনি। তাঁর বিখ্যাত ছবি ‘মৃত্যুশয্যায় শাহজাহান’ পাশে বসে আছেন জাহানারা, এটার কপি সংগ্রহ করি। একই সময়ে পিকাসোর ‘শান্তি কপোত’-এর কপিও সংগ্রহ করি। স্কুল পাস করেই আর্ট কলেজে ভর্তি হই। সেখান থেকে পাস করে হাওড়া স্কুলে চাকরি নিই। তারপর হ্যান্ডলুম বোর্ডে চাকরি করি।’

তারপর যোগেন চৌধুরী প্যারিসে চলে যান চার বছরের জন্য। প্যারিস থেকে ফিরে এক-দেড় বছর তিনি ছবি অাঁকতে পারেননি। শুধু ফরাসি দেশ নয়, সমগ্র ইউরোপের ছবি দেখে এ-রকম এক অবস্থা হয়েছিল। তাঁর মনে তখন অনেক জিজ্ঞাসা। কী করবেন? কী আঁকবেন? শিল্পীর দায় কী? কাজ কী? এক বছর ধরে এ-রকম নানা ভাবনা তাঁকে গভীরভাবে আলোড়িত করে।

যোগেন চৌধুরী আমাকে বলেছিলেন, ‘ছবির জন্য সেসব চিন্তাভাবনা খুব সাহায্য করেছিল। এভাবে না এগোলে ফল ভালো হতো না। প্যারিস থেকে ফিরে আমার ছবিতে আধুনিকতার প্রতিফলন ঘটে। তবে প্রথমে ছবিতে সেই শৈশবের লতা, পাতা, ফুল চলে আসে। বিয়ের পর ছবিতে রোমান্টিকতা আসতে শুরু করল। তখনই বিবাহিত জীবন নিয়ে কিছু কৌতুক তৈরি করি ছবিতে। তারপর আস্তে আস্তে ব্যক্তিজীবন থেকে বের হয়ে অন্য মানুষ, অন্য বিষয় নিয়ে কাজ শুরু করি।’

এরপর তিনি দিল্লির রাষ্ট্রপতি ভবনের কিউরেটরের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সেখানে কাজ করতে গিয়ে অত্যন্ত কাছ থেকে দেশের রাজনীতি আর রাজনীতিবিদদের প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পান। সে সময়ই তিনি সামাজিক ও রাজনীতির ভেতরের কদর্য বিষয়গুলো নিয়ে ব্যঙ্গ করে ছবি অাঁকতে শুরু করেন। মেরুদন্ডহীন রাজনীতিকদের নিয়ে অনেক ব্যঙ্গাত্মক ছবি এঁকেছেন তিনি। সেগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল মানুষের মধ্যে।

যোগেন চৌধুরী মানবিকতায় বিশ্বাস করেন। শুধু ছবি আঁকলে হবে না, সে জন্য তিনি মনে করেন, মানুষের জন্য আরো কিছু করতে হবে। তবে জীবনের প্রতি, মানুষের প্রতি ভালোবাসা না থাকলে ভালো ছবিও করা যায় না।

যোগেন চৌধুরী বলেন, ‘দিল্লিতে আরাম-আয়েশে থাকার বহু সুযোগ ছিল, কিন্তু সেখানে থাকলে কাজ হতো না। কাজ করার জন্য, ছবি করার জন্যই আমি শান্তিনিকেতনে এসেছি স্থায়ীভাবে বসবাস করতে।’

কোন মাধ্যমে কাজ করতে পছন্দ করেন? জিজ্ঞেস করতেই তাঁর সাফ জবাব, ‘যা আসবে, যা করতে চাই, সেটাই করব। জলরং, প্যাস্টেল, তেলরং বা শুধু কালি – এসব মাধ্যমেই কাজ করি। আমার কোনো ধরাবাঁধা নিয়ম নেই।’

যোগেন চৌধুরী বলেন, ‘আমার জীবনে কারো সরাসরি প্রভাব নেই। তবে ভারতের শিল্প আন্দোলন বা ইউরোপীয় শিল্প আন্দোলনের প্রভাব রয়েছে। শিল্পী-জীবনের প্রথমে অপ্রত্যক্ষভাবে পিকাসোর কিছু প্রভাব পড়েছে আমার কাজে। পিকাসোর কাজ সব সময়ই খুব ভালো লাগে।’

ভারতের পূর্বসূরিদের মধ্যে যোগেন চৌধুরী একেকজনকে একেকভাবে দেখেন। অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে শ্রদ্ধা করেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিরাট জায়গা রয়েছে যোগেনের মনে। তাঁর ছবি খুবই পছন্দের। পূর্বসূরিদের সম্বন্ধে বলেন, ‘নন্দলাল বসুকে শিক্ষক হিসেবে মানি, তাঁর কাজও ভালো লাগে। যামিনী রায়ের কিছু ছবি পছন্দ করি, কিছু করি না। মকবুল ফিদা হুসেন অত্যন্ত শক্তিশালী শিল্পী। কিছু কাজে পৌনঃপুনিকতা রয়েছে। এখনো পরিতোষ সেনের কাজ পরিণতির দিকে এগোচ্ছে। সোমনাথ হোর আরেক শিল্পী, যাঁকে শ্রদ্ধা করি। কে জি সুব্রহ্মণ্যনের কাজ পছন্দ করি। আর গণেশ পাইনের কাজ বেশ ভালো লাগে।’

তিনি বলেন, ‘আমি মানবমুক্তিতে বিশ্বাস করি। যারা মানুষের মুক্তির কথা বলে, তাদের পথ ভিন্ন। আমিও চাই দুর্দশা, দুর্গতি, অন্যায় থেকে মানুষের মুক্তি হোক। তবে আমার মাধ্যম আর তাদের পথ ভিন্ন। সেখানে হয়তো আমাদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে। আমি আমার স্বাধীনতাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে চাই। ‘জীবনের জন্য শিল্প’ এই মন্ত্রে আমি বিশ্বাস করি। শিল্পকে বাদ দিয়ে জীবন হতে পারে না।’

শান্তিনিকেতনে যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে সেই সুন্দর সময় কাটানোর পর ১৯৯২ সালের জুনের মাঝামাঝি তিনি ঢাকায় আসেন। সেবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত ভারতের প্রথম সারির বিশজন শিল্পীর ছবি প্রদর্শনীর কমিশনার হিসেবে যোগেন চৌধুরী বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর অতিথি হয়ে এসেছিলেন।

ঢাকায় অবস্থানকালে যোগেন চৌধুরী শিল্পকলা একাডেমী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে প্রদর্শনীসংক্রান্ত আলোচনা ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা শিক্ষায়তন, জাতীয় জাদুঘর, মতিঝিলে বিসিকের ডিজাইন সেন্টার, সোনারগাঁর লোকশিল্প জাদুঘরসহ নানা জায়গায় গেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানে শিল্পীদের সঙ্গে মিশেছেন, মতবিনিময় করেছেন। এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেও ঢাকার প্রতিনিধিস্থানীয় শিল্পী, গায়ক ও কবিদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার কিছু সময় বের করে নিয়েছিলেন যোগেন চৌধুরী। ঢাকায় যাঁদের সঙ্গে তিনি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন, সবাইকে তাঁর খুব কাছের লোক মনে হয়েছে। তিনি মনে করেন, সেটা ভাষার জন্য, যাতে পরস্পরকে বুঝতে পারা যায় সহজেই। আসলে পৃথিবীর সর্বত্রই শিল্পকলা, সাহিত্য, গান দিয়ে আমরা কাছাকাছি আসি। এটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার। মানুষের মঙ্গলও সেখানে। ঢাকার অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে তিনি এ কথাগুলো বলেছিলেন আমাকে।

সেবার ঢাকায় অবস্থানকালে আমাদের ওয়ারীর বাসায় এসেছিলেন এক দুপুরে। ঢাকার শিল্পীদের মধ্যে সফিউদ্দীন আহমেদ, মোহাম্মদ কিবরিয়া, কাইয়ুম চৌধুরী আর নিতুন কুন্ডুও ছিলেন। সেদিন আমাদের দারুণ সময় কেটেছিল গল্পের আনন্দ আর খাওয়াদাওয়ার মধ্য দিয়ে। শিল্পী যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে আরো দেখা হয়েছে শান্তিনিকেতন, কলকাতা ও ঢাকায়। প্রতিবারই সেই একই আন্তরিকতা আর ভালোবাসার ছোঁয়া পেয়েছি।

বাংলাদেশের শিল্প আন্দোলন সম্পর্কে যোগেন চৌধুরীর স্পষ্ট অভিমত – উৎসাহী শিল্পী আছেন প্রচুর। স্বাধীনতার পর নতুন পরিবেশে কাজ করছেন সবাই। বলা যায়, শিল্পকলা আন্দোলনে এই অঞ্চলে ভারতের পরই বাংলাদেশের স্থান। এখানকার সাংস্কৃতিক জীবনে প্রাণের পরশ পাওয়া যায়।

ঢাকার যেসব জায়গায় তিনি গিয়েছেন, সে সম্পর্কে বলেছিলেন, ‘জয়নুল আবেদিনের স্বপ্ন সোনারগাঁর প্রদর্শনী অত্যন্ত আকর্ষণীয় হোক। ডিজাইন সেন্টারে খুব ভালো কাজ হচ্ছে – কলকাতার চেয়ে ভালো। আর্ট কলেজের পরিবেশ খুব ভালো লেগেছে। অনেকটা শান্তিনিকেতনের পরিবেশের মতো মনে হলো। জাতীয় জাদুঘর ভালো তৈরি হয়েছে – পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ব্যবস্থাপনা। প্রচুর দর্শক আসে।’

ঢাকায় তাঁর সঙ্গে কথায় কথায় বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ চলে আসে। আগেই তাঁর কাছে শুনেছিলাম, আমাদের সেই মরণপণ সংগ্রামী দিনগুলোর স্মরণে তিনি ছবি এঁকেছিলেন। বাংলাদেশের জন্য হূদয়ের সমস্ত ভালোবাসা দিয়ে তৈরি হয়েছিল সে ছবি। তাঁর ইচ্ছে ছিল, ঢাকার কোনো জাতীয় প্রতিষ্ঠানকে এ ছবি তিনি উপহার দেবেন। সে সময় তিনি কবিতাও লিখেছেন বেশ কিছু।

এভাবে কলকাতা ও ঢাকায় যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ আর গল্পগুজবের মধ্য দিয়ে আমরা অনেক কাছাকাছি চলে আসি। কোথায় একটা মনের মিল খুঁজে পাই। সেটা হলো মানবকল্যাণের ভাবনা। ইদানীং যোগেন চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগ কমে এসেছে সত্যি। কিন্তু এখন প্রতিনিয়ত তাঁর কথা মনে করি, তাঁর কথা ভাবি। কারণ, তাঁর চিত্রকলা আমি ভালোবাসি।

Leave a Reply

*