logo

কয়েকটি উল্লেখযোগ্য প্রদর্শনী

মো বা শ্বি র  আ ল ম  ম জু ম দা র

 রৌদ্র ছায়া

মা ও ছেলের চারুবন্ধন। ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণী স্বভাবশিল্পী। কুড়িয়ে পাওয়া গাছ, লতাগুল্মের সঙ্গে যোগ করেন শিল্পভাবনা। তৈরি হয় ভাস্কর্যের এক নতুন ভাষা। কারু তিতাস মায়ের শিল্পরথে চড়ে সৃষ্টি করেন ক্যানভাসে রং আর বুনটের সখ্য। সন্তানের নাড়ির যোগ আছে মায়ের সঙ্গে। প্রকৃতিই বেঁধে দেয় এমন অবিচ্ছেদ্য বন্ধন। ‘রৌদ্র ছায়া’ শিরোনামের এ-প্রদর্শনী শুরু হয় গত ২৪ মে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্-এ। ভাস্কর্য ও চিত্রকলা মাধ্যমে মোট শিল্পকর্মের সংখ্যা একশ তেইশ। প্রিয়ভাষিণীর তিরানববইটি ছোট-বড় কাজসহ অ্যাক্রিলিক মাধ্যমে করা তিতাসের ত্রিশটি কাজের বর্ণাঢ্য আয়োজনে দেয়াল ও মেঝেতে ছড়িয়ে পড়ে শিল্পসম্ভার। প্রথমে প্রিয়ভাষিণীর কাজ নিয়ে আমরা খানিক অতীতে ফিরে যাই। মনে পড়ে প্রথম প্রদর্শনী ‘প্রতিদিন শত তুচ্ছের আড়ালে’ শিরোনামের কাজগুলোর কথা। প্রিয়ভাষিণী প্রকৃতির ছায়ায় নিজেকে গুছিয়ে রাখেন। প্রকৃতিও যেন তাঁর জন্য অপেক্ষা করে। একখন্ড কাটা গাছের টুকরায় মানুষের অবয়ব কিংবা প্রাণিকুলের দৈহিক অবয়ব খোঁজ করেন প্রকৃতির মাঝে। প্রকৃতি পাঠ করতে করতে একসময় তাঁর সৃষ্টিসম্ভারে যুক্ত হতে থাকে নানা আকৃতি। বৃক্ষের কান্ড, শাখা-প্রশাখা, শুকনো পাতা, শেকড়-বাকড়, নারকেলের খোল, শুকনো ডালপালা। জীবন্ত মানিপ্লান্টের তরতর করে বেড়ে যাওয়া দেখে বোঝা যায়, মৃত গাছের দেহে জীবনের খোঁজ করছেন শিল্পী। ভাস্কর্যে উল্লম্ব আকৃতির অবয়বের সঙ্গে আড়াআড়ি আকৃতির উপস্থাপনও লক্ষণীয়। প্রিয়ভাষিণী শিল্পকলার ব্যাকরণ বুঝে নিয়েছেন প্রকৃতি থেকে, এটি উপলব্ধির চূড়ান্ত পর্বে পৌঁছলেই কেবল সম্ভব। সব প্রাণীই প্রকৃতির মাঝে বেড়ে ওঠে। মানুষ সেখানে প্রধান হয়ে স্থান করে নেয়। প্রকৃতির গাছগাছালির শরীরে মানুষের অবয়ব খোঁজেন প্রিয়ভাষিণী। লালিত্যময় বৃক্ষের ছন্দ অবিকল থেকে যায় সৃষ্ট শিল্পকর্মে। একটি গাছের ডালে বসা দুটি পাখির নিবিড় বন্ধন রচনা করেছেন বৃত্তাকার নারকেলের সঙ্গে আরো কিছু বৃত্ত ও ডাল যুক্ত করে। শুধু গাছের ফেলে দেওয়া অংশ নয়, তার সঙ্গে মাটিতে অবহেলায় পড়ে থাকা শেকড়সহ গাছের গুঁড়িকে পরম যত্নে তৈরি করেন ভিন্নরকম আসবাব হিসেবে। প্রকৃতির সঙ্গে আত্মিক যোগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে প্রিয়ভাষিণীর শিল্পকর্মে। এ-প্রদর্শনীতে কারু তিতাস দেয়ালে ঝুলিয়েছেন ত্রিশটি ক্যানভাসের ওপর অ্যাক্রিলিক মাধ্যমের কাজ। প্রকৃতি, পরিবেশ, নিত্য দেখা অবয়ব নিয়ে কারু তিতাসের ক্যানভাস। কখনো নীল, ধূসর, সবুজ, নীলাভ সবুজ রং ব্যবহার করে তিনি নির্দিষ্ট রঙের প্রতি ঝোঁকের কথা জানিয়ে দেন। চিত্রতলে স্থান বিভাজন অতি গুরুত্বপূর্ণ। তিতাস এ-ব্যাপারে নজর দেন সচেতনভাবে। জ্যামিতি, রং, বুনট, স্থূল ও সূক্ষ্ম রেখার ব্যবহারের প্রবণতা অন্যান্য কাজের চেয়ে আলাদা করে দেয়। তিতাসের ক্যানভাসে শ্যামল বাংলা আছে, মাটির স্তর বিন্যাস আর নীল আকাশ আছে, তাহলে বিশ্বশিল্পের স্রোতের বাইরের কোনো সৃষ্টি বলা যায় না তিতাসের কাজকে। জ্যামিতির সঙ্গে বুনট যুক্ত করে তিনি বিমূর্ত আচরণের শেষভাগে পৌঁছে আবার খানিক বাস্তব দেখান। ওই যে দরজার কড়া, খিড়কি, ক্যানভাসের উলটো পিঠ এঁকেছেন বিশেষ যত্নে, তাতে বাস্তবরীতিতে তাঁর পারদর্শিতা স্পষ্ট। পলেস্তারা খসে দেয়াল জীর্ণ হলে যা হয় কোনো কোনো ক্যানভাসে সে অভিব্যক্তি জানান দেয়। তিতাসের কাজের শিরোনাম ন্যাচার বা প্রকৃতি। প্রকৃতির রং আর ছন্দের ঐক্যের সঙ্গে মিলে যায় তাঁর মায়ের হাতে গড়া মমতাময় ভাস্কর্য। গত ৪ জুন এ-প্রদর্শনী শেষ হয়।

 

উত্থানপর্ব

উত্থানপর্ব। ১৯৯৩ সালে সাতজন ছাপচিত্রশিল্পী একসঙ্গে হয়ে শুরু করেছিলেন ছাপচিত্রকলায় নিরীক্ষার আয়োজন। ছাপাই ছবির প্রথাগত নির্মাণকৌশল বাদ দিয়ে শুরু করেন নানা মাধ্যমের নিরীক্ষা। ওই যূথবদ্ধ যাত্রা থেমে যায় তিনটি প্রদর্শনী হবার পর। এ-বছর বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্ উদ্যোগী হয়ে আবার পাঁচজন ছাপচিত্রশিল্পীকে এক সারিতে এনেছেন। এটি উত্থান। গত ৮ জুন শুরু হওয়া এ-প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন ঢাকা প্রিন্টমেকার্সের পাঁচজন শিল্পী – রোকেয়া সুলতানা, আহমেদ নাজির, রফি হক, রশীদ আমিন ও মোস্তফা জামান। ছাপচিত্রের জনক গুরু সফিউদ্দীন আহমেদের দেখানো বিশুদ্ধ ছাপচিত্র নির্মাণের পথ ধরেই বাঁকবদলের উদ্যোগ নেন এসব শিল্পী। এঁরা সবাই বাংলাদেশে শিল্পকলার ক্ষেত্রে বিশিষ্টজন হয়ে উঠেছেন। গত শতাব্দীতে বিশ্বশিল্পকলায় নানা নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের ছাপচিত্রীদের কাজেও এই আধুনিকতার ছাপ স্পষ্ট। এ-প্রদর্শনীর কাজগুলো অতিসাম্প্রতিক সময়ে সম্পন্ন করা। অগ্রজ শিল্পী রোকেয়া সুলতানার কাজে মাধ্যমের পরিবর্তনের সঙ্গে বিষয়ের পরিবর্তনও আমরা লক্ষ করি। গত এক দশকে তিনি ছাপচিত্র থেকে দূরে সরে অ্যাক্রিলিক, জলরং, মিশ্র মাধ্যমে জল, আকাশ ও হাওয়ার রূপ নির্মাণ করেছেন। ওই সময়ের কাজে আকাশের সঙ্গে জলের সম্পর্কের খোঁজ মিলেছিল। ছাপাই ছবির মৌলিক রীতি অব্যাহত রেখে ছবির প্লেটে যুক্ত করেছেন নানা আলংকারিক আকৃতি। এ-প্রদর্শনীর কাজের শিরোনাম ‘ফাতা মরগানা’, মাধ্যম ইউনিক প্রেসার প্রিন্ট। একটি প্লেট থেকে অনেক রঙের ছাপাই ছবির ইমেজ তৈরি করার একটি পদ্ধতি বলা চলে। স্নিগ্ধ রূপ, প্রকৃতির কোমলতার সন্ধান দেয় রোকেয়া সুলতানার আলংকারিক কাজ। শিল্পগুরু বাবা সফিউদ্দীন আহমেদের দেখানো শিল্পপথেই হাঁটছেন আহমেদ নাজির। ছাপচিত্রের অ্যাকাডেমিক পর্যায় থেকে সরে এসে তিনি গড়ে তুলেছেন মাধ্যমের নিরীক্ষা। প্রদর্শনীর ছবিতে প্রযুক্তিনির্ভর ইমেজের সঙ্গে পথিকৃৎ শিল্পীর প্রতিকৃতি যোগ করে সাদাকালো রং প্রয়োগ করেছেন। শিরোনাম – ‘জার্নি অব অ্যা গ্রান্ডমাস্টার’। প্রযুক্তির সাহায্যে ছাপচিত্রের আদল অক্ষুণ্ণ রেখে চিত্রতল নির্মাণ করেছেন আহমেদ নাজির। রফি হক ছাপচিত্রে পরিবর্তন এনেছেন ছবির প্লেটে ভারী জ্যামিতিক আকৃতি যোগ করে। ছবির জমিনে মুদ্রিত কাগজের পৃষ্ঠা জুড়ে দিয়ে ছবির ভাষা তৈরি করেন। তেলরং লেপে দিয়ে রঙের সঙ্গে নিজেই শব্দবিনিময় করেন। দর্শক এ-শিল্পকর্মের সঙ্গে কথোপকথনে যোগ দেন। রফি হকের এ-প্রদর্শনীর কাজের শিরোনাম – ‘জার্নাল অব এম্পটি ওয়ার্ড’। ছাপাই ছবির বিশুদ্ধতা নিয়ে রশীদ আমিন কাজ করেছেন। প্রদর্শনীর সব কয়টি কাজ এচিং ও অ্যাকুয়াটিন্ট মাধ্যমে করা। কালো ও সোনালি রঙের চিত্রতলের মাঝে সূক্ষ্ম ও স্থূল রেখায় বিষয় গড়ে তোলেন। ছাপচিত্রের বর্ণিল আবহ রশীদ আমিন দর্শকদের সামনে প্রকাশ করেন স্বাচ্ছন্দ্যে। চীনে ছাপচিত্র বিষয়ে গবেষণারত অবস্থায় তিনি এ উপমহাদেশের শিল্পকলার মাধ্যম নিয়ে সাম্প্রতিক নিরীক্ষা নিয়েও মনোযোগী হয়েছেন। এ-প্রদর্শনীর কাজগুলো তার সাক্ষ্য দেয়। গতি আর আকৃতির দ্রুতলয়ই রশীদ আমিনের ‘ইন সার্চ অব ইনফিনিটি’ কাজের শক্তি। মোস্তফা জামান ছাপচিত্রে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নিয়েছেন আশির দশকের শেষার্ধে। প্রদর্শনীর কাজগুলোর ধরন একেবারে ব্যতিক্রম। তাঁর কাজের মাধ্যম সি-প্রিন্ট বা কম্পিউটার প্রিন্ট। বৃত্তের ঘূর্ণনের মাঝে অবস্থান করা মানুষ, তার সঙ্গে পশুর যুক্ত হওয়া আমাদের নতুন এক শিল্প উপলব্ধির ঘোষণা দেয়। ‘উত্থানপর্বের’ পাঁচ শিল্পীর ভাষা ও বোধের উদ্ভাসন আমাদের ছাপচিত্রের পথ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত ১৯ জুন এ-প্রদর্শনী শেষ হয়।

 

সৃজনের উদ্যান

এদেশে টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু ১৯৬৪ সালের ৫ ডিসেম্বর (তখনকার পাকিস্তান টেলিভিশন করপোরেশন নামে)। ক্রমে এর বিবর্তন হয় অগ্রজ শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার, ইমদাদ হোসেন, কেরামত মওলা প্রমুখের হাত ধরে। শিল্পাচার্যের প্রত্যক্ষ সহায়তায় এ-বাংলার মানুষের জন্য দৃশ্যমান এ-মাধ্যম হয়ে ওঠে সংস্কৃতি ও মনন বিকাশের একমাত্র মাধ্যম। শিল্পীর কী প্রয়োজন আর শিল্পকর্মের কী প্রয়োজন তা বোধগম্য হয়ে ওঠেনি পূর্ব পাকিস্তানের শাসকশ্রেণির। ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ আমাদের দিগন্ত পালটে দেয়। মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে সাংস্কৃতিক স্বাধীনতাও আমরা অর্জন করেছি। ষাটের দশকের শিল্পীদের হাত ধরে এ দশকের তরুণ শিল্পীরা দৃশ্যশিল্প সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশ টেলিভিশনে বাংলার রূপ, রং আর ষড়ঋতুর রূপ তুলে ধরেছেন। গত ২৩ জুন থেকে বেঙ্গল গ্যালারি অব্ ফাইন আর্টস্-এর আয়োজনে বিটিভিতে কর্মরত ও অবসর নিয়েছেন এমন শিল্পীদের বিশেষ প্রদর্শনী শুরু হয়। দুটি ভাস্কর্য ছাড়াও চৌত্রিশজন শিল্পীর মোট একষট্টিটি শিল্পকর্ম প্রদর্শিত হয়। নিজস্বকরণ পদ্ধতিতে শিল্পকর্মগুলোর মূল বিষয় হলো বাংলা, বাঙালি, প্রতিদিনের জীবনযাপন। ব্যক্তিক অনুভূতি আর আবহমান বাংলার রূপ, রঙের উদ্ভাসন এসব শিল্পীর কাজে উপস্থিত। বাস্তব, আধাবাস্তব ও একেবারে বিমূর্ত আচরণে শিল্পনির্মাণ করেছেন শিল্পীরা। একযোগে বিষয়ের দিকে মনোযোগী হলে বোঝা যায়, তাঁদের সৃষ্টি আবহমান বাংলার মানুষের জন্যই। শিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার নদীর তীর এঁকেছেন আলট্রামেরিন ব্লুর আড়াআড়ি চলনে। নদীর চঞ্চল ঢেউয়ের সঙ্গে মাঝখানে উঁকি দেওয়া সবুজ দ্বীপ আমাদের অতিচেনা গ্রামের কথা মনে করায়। আনোয়ার হোসেন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিকে তুলে এনেছেন ‘ভিক্টোরি অব বাংলাদেশ ১৯৭১’ শিরোনামের কাজে। মহিউদ্দিন ফারুক তাঁর দুটি কাজেই নারীর ছন্দের সঙ্গে প্রকৃতিকে যুক্ত করেছেন। রেখার গতি আলোছায়ার ব্যবহারে তাঁর কাজ দুটি ব্যতিক্রম। রেজাউল করিম সম্প্রতি শিল্পনির্দেশনার কাজ থেকে অবসর নিয়েছেন। প্রকৃতি পাঠের চিহ্ন তাঁর কাজে খুঁজে পাওয়া যায়। চাঁদ, মাটি, বৃষ্টি আর বুনটের উদ্ভাসনে তাঁর ক্যানভাস সেজেছে। আব্দুল মান্নান প্রতিকৃতি শিল্পী হিসেবে আমাদের চেনা। মানুষের প্রতিকৃতি সৃষ্টির ক্ষেত্রে মান্নান মনোযোগ দেন ব্যক্তির অবয়ব, রং আর অভিব্যক্তির প্রতি। প্রদর্শনীতে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে বাস্তবধর্মী নিখুঁত আলোছায়ার প্রয়োগে কবিগুরুর অভিব্যক্তি স্পষ্ট হয়েছে। মোহাম্মদ ইউনুস অল্পকিছু সময় বিটিভিতে শিল্পনির্দেশক হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তী সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলা অনুষদে শিক্ষকতায় যোগ দেন। ইউনুসের কাজে অভিব্যক্তিই প্রধান। অতি সূক্ষ্ম বিষয় নিয়ে তিনি ক্যানভাস তৈরি করেন। রং বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তিনি বেশ সহনশীল। দৃষ্টিতে স্নিগ্ধতা দেয় এমন রং তাঁর কাজে উপস্থিত করেন।

জ্যামিতিক আকৃতিতে গড়া মানুষ ও প্রকৃতির সঙ্গে গতির সন্নিবেশে বিজয় সেন এঁকেছেন ‘বিদ্রোহ’ শিরোনামের কাগজে তেলরঙের ছবি। হারুন আল রশিদ সাদা সিমেন্টে নারীর পূর্ণ ফিগার গড়েছেন। উদ্ধত নারীর হাতে অসীমের ছায়া। বাস্তবধর্মী নিসর্গ অাঁকায় মানিক দে সিদ্ধহস্ত। বাস্তবানুগ কাজের মধ্যে তিনি রঙের ছোপছোপ অাঁচড় রেখে দেন। বুনটের মাঝে বিষয়ের উপস্থিতি প্রথাগত নির্মাণ ভেঙে দেয়। স্বপন আচার্য্য জলরঙে বিস্তীর্ণ সবুজ প্রান্তরে বসতি এঁকেছেন। বুনট আর সূক্ষ্ম রেখায় বিষয়কে স্পষ্ট করে হাজির করেন। জি এম খলিলুর রহমান নদী নৌকা নিসর্গের বাস্তবরূপ উপস্থিত করেছেন অ্যাক্রিলিক মাধ্যমে। আবহমান বাংলার নদ-নদী শিল্পীর কাছে নানারূপে ধরা দেয়। নদী ও নৌকা ছবিতে খলিলুর রহমান সকালের সময়কে ধারণ করেছেন। জাহিদ মুস্তফা রঙের ঘূর্ণনের মাঝে মানবীর মুখ গড়ে তোলেন। তাঁর প্রতীকধর্মী উপস্থাপনায় বিষয় বিবৃত হয় নীল রঙে। ‘পেন্টাগন’ শিরোনামের কাওছার হাসানের স্থাপনাশিল্পে কৌণিক আকৃতির মাঝে মানুষের অবয়বে জ্বলতে থাকা আলো উদ্ভাসনের খোঁজ দেয়। জ্যামিতি, রং, রচনাশৈলী, আর নানা মাত্রায় গড়া শিল্পের সমাবেশে ‘সৃজনের উদ্যান’ প্রদর্শনী দর্শকের কাছে গ্রহণীয় হয়েছে নিশ্চিত। কিছু দুর্বল ও চিন্তার দৈন্যপ্রসূত কাজের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীর মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। এ-প্রদর্শনী দর্শক ও শিল্পরসিকদের কাছে হাজির হয়েছে একটি মাইলফলক হিসেবে। প্রদর্শনীটি শেষ হয়েছে গত ৩ জুলাই।

Leave a Reply

*